News Bangla

৯৯৯ কল দিয়ে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বসতভিটা রক্ষা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ, কেশবপুর ॥ কেশবপুরে পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ নাম্বারে কল দিয়ে সন্ত্রাসীদের হাত থেকে বসত ভিটা রক্ষা করলেন কৃষক তজিবর রহমান। খবর পেয়েই তাৎক্ষনিক কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক পিন্টু লাল দাশ সঙ্গীয় পুলিশ ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছালে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

সন্ত্রাসীরা পৌর শহরের এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির নির্দেশে এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানায়। পেশায় দিনমজুর তজিবুর রহমান কেশবপুর শহরের ভোগতি নরেন্দ্রপুর সাবেক ২৬৬৯ দাগের ৪ শতক জমি ২০০৬ সালে কবলা দলিল মূলে ক্রয় করে বসবাস করে আসছেন। পাশের একটি জমি ক্রয় করেন মশিয়ার রহমান নামের এক ব্যক্তি।

মশিয়ারের বাড়ি থেকে বের হবার রাস্তা না থাকায় পৌর এলাকার একজন জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় থাকা সন্ত্রসাীদের ভাড়া করে তজিবুর রহমানের নির্মিত ঘর ভেঙ্গে রাস্তা নির্মানের চেষ্টা করে। নিরুপায় হয়ে তজিবুর রহমানের ভাইয়ের ছেলে পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ নাম্বারে কল দেয়।

খবর পেয়েই তাৎক্ষনিক কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক পিন্টু লাল দাশ ঘটনাস্থলে পৌছালে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। সরেজমিনে তজিবুর রহমান বলেন, ওই জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করছি। তাদের রাস্তা প্রয়োজন সেটা কখনো আমাদের বলেনি। হটাৎ করে শনিবার সকালে একদল ব্যক্তি পৌরসভার স্টাফ পরিচয় দিয়ে এখানে আসেন। পৌরসভার অনুমোদন না নিয়ে ঘর নির্মান করা হয়েছে এ অভিযোগ তুলে ঘর ভেঙ্গে নিতে বলে এবং তারা লোহার রড ও বাশের লাঠি দিয়ে ঘর ভাংগা শুরু করে।

পৌরসভার মেয়রের নির্দেশে তারা এসেছে বলে জানায়। পরবর্তীতে পুলিশ আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। তজিবুর রহমানের স্ত্রী হালিমা খাতুন বলেন, পৌর সভার মেয়রের লোক পরিচয় দিয়ে একদল ব্যক্তি এখানে এসে আমাদের বাড়ি ভাংচুর শুরু করে। এলাকাবাসী ও পুলিশ চলে আসায় সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

তজিবুর রহমানের ভাইপো তানভির হাসান মুন্না বলেন, আমার চাচা টিনের ছাউনি দিয়ে ঘর নির্মান করে গো-খাদ্য রাখছেন দীর্ঘদিন ধরে। শনিবার পৌরসভার কর্মচারী হাবিবসহ জনৈক মাহাবুর, আরিফ, তাহেরসহ একদল ব্যক্তি সন্ত্রাসী স্টাইলে এখানে এসে ঘর ভেঙ্গে নিতে বলে। ঘর ভাঙ্গতে অপারগতা প্রকাশ করায় তারা নিজেরাই লোহার রড দিয়ে ঘর ভাংগা শুরু করে। এসময় আমি পুলিশের জরুরী সেবা ৯৯৯ নাম্বারে কল করি । সাথে সাথেই থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

এবিষয়ে মশিয়ার রহমান বলেন, ওই জমির মধ্যে আমার কিছু জমি রয়েছে। আমার বাড়ি থেকে বের হবার রাস্তা না থাকায় ওই জমিতে রাস্তার জন্য পৌরসভায় মেয়রের কাছে বলা হয়েছে। খবর পেয়েই ওই জমিতে তারা ঘর নির্মান করায় পৌরসভার লোকজন সেটি বন্ধ করে দিতে এসেছিল।

কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক পিন্টু লাল দাস বলেন, পুলিশের জরুরী সেবা থেকে নির্দেশনা পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে। উভয়পক্ষকে কাগজপত্র নিয়ে থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে। যাদের ঘর রয়েছে তারা কাগজপত্র নিয়ে হাজির না হওয়ায় পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।