News Bangla

সরকার কোনো বিদেশি চ্যানেল বন্ধ করেনি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
সরকার কোনো বিদেশি চ্যানেল বন্ধ করেনি। দেশের আকাশ উন্মুক্ত রয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন।
তার ভাষায়- “দেশে একটি আইন রয়েছে, যে আইনবলে বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান প্রচার করার কোনো সুযোগ নেই। ক্যাবল অপারেটরদের একথা জানানো হয়েছে অনেক আগেই। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১লা অক্টোবর থেকে বিদেশি চ্যানেলগুলোর সম্প্রচার বন্ধ রয়েছে। আর এটা করেছে ক্যাবল অপারেটর এসোসিয়েশন। এখানে সরকারের কি করার আছে? সরকার তো এককভাবে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। এখানে যেকোনো চ্যানেল সম্প্রচার করতে পারে কিন্তু দেশের আইন মানতে হবে। সব দেশেই আইন মেনে বিজ্ঞাপনমুক্ত সম্প্রচার করা হয়। আমাদের এখানে আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করা হচ্ছিল দীর্ঘদিন থেকে।”
মন্ত্রী বলেন, “যেকোনো বিদেশি চ্যানেল বিজ্ঞাপনমুক্তভাবে সম্প্রচারের আইন ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ইউরোপ, আমেরিকাসহ পৃথিবীর অন্যান্য সব দেশেই আছে। এই আইন মেনেই সেখানে বিদেশি চ্যানেলগুলো সম্প্রচার করা হয়। ব্যতিক্রম শুধু বাংলাদেশ। আমরা এই আইন বাস্তবায়নের কথা দুই বছর আগে সংশ্লিষ্ট সবাইকে বলেছিলাম। বেশ কয়েকবার তাগাদাও দেয়া হয়েছে। মন্ত্রী বলেন, কেউ কেউ ডিজিটালাইজড না হওয়া পর্যন্ত আইনটি শিথিল রাখার পক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছেন। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা পুরোপুরি ডিজিটালাইজড হয়নি। তারপরও দেশগুলোতে আইন কার্যকর রয়েছে। সুতরাং আমাদের দেশে আইনকে তোয়াক্কা না করে এ ধরনের অজুহাত তোলার কোনো যুক্তি নেই।”
তথ্যমন্ত্রী এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, “ক্যাবল অপারেটররা ক্লিন ফিড পায়নি সেজন্য সম্প্রচার বন্ধ রেখেছে। সেটাকে আমি সাধুবাদ জানাই।” মন্ত্রী বলেন, “আমরা দেখতে পাচ্ছি বিবিসি, সিএনএন, এনএইচকে, ফ্রান্স ২৪, রাশিয়া-টুডেসহ প্রায় ২৪ টি চ্যানেলের ক্লিন ফিড আসে। কিন্তু সেগুলোও অনেকে চালাচ্ছেন না। এটা ক্যাবল অপারেটরদের লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ। কেউ শর্ত ভঙ্গ করলে সেই অপরাধে অভিযুক্ত হবেন।”
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, “বিদেশি চ্যানেলগুলোর এ দেশে এজেন্ট আছে। ক্লিন ফিডের দায়িত্ব হচ্ছে সংশ্লিষ্ট চ্যানেলের এবং এজেন্টের। কিন্তু কোনো কোনো ক্যাবল অপারেটর এজেন্টদের পাশ কাটিয়ে সরাসরি স্যাটেলাইট থেকে এটি পাইরেসি করে ডাউনলিংক করে। অনুমতি ছাড়া ডাউনলিংক করা আইন বহির্ভূত।”
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “ক্যাবল অপারেটরদের আন্দোলনের কথা বলা অযৌক্তিক। তারা দেশের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছে এবং সংস্কৃতিকে চোখ রাঙাচ্ছে। সেগুলোর পক্ষে ওকালতি করা দেশের স্বার্থবিরোধী, আইনবিরোধী।” মন্ত্রীর আশা- দেশের স্বার্থবিরোধী কার্যক্রমে তারা লিপ্ত হবেন না। সরকার কোনো চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। দেশের স্বার্থ ঊর্ধ্বে তুলে ধরার জন্য, দেশের আইন বাস্তবায়ন করার জন্য সরকার বদ্ধ পরিকর। তবে তারা যদি আলোচনা করতে চায় আমরা আলোচনায় প্রস্তুত রয়েছি। তবে এই আলোচনার ভিত্তি হতে হবে আইনমানা, দেশের স্বার্থ সংরক্ষণ।
মন্ত্রী বলেন, “ক্যাবল অপারেটররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এটার কোনো যুক্তিসংগত কারণ নেই। এটি জনগণকে ধোঁকা দেয়ার একটি প্রয়াস।” মন্ত্রী উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘ক্যাবল অপারেটররা কি মানুষের কাছ থেকে চার্জ কমিয়ে দিয়েছে? তাদের আয় এক টাকাও কমেনি বরং আরো টাকার সাশ্রয় হবে।” ড. হাছান মাহমুদ বলেন, “সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, দেশের মিডিয়া-ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থে, সাংবাদিকদের স্বার্থে, গণমাধ্যমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পী-কলাকুশলীদের স্বার্থে। তাই দেশের সমস্ত গণমাধ্যম এই সিদ্ধান্তকে অভিনন্দন জানিয়েছে।”
উল্লেখ্য যে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকরে সারা দেশে মোবাইল কোর্ট চলমান রয়েছে। আইন ভঙ্গের অভিযোগ যেখান থেকে পাওয়া যাবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। সূত্র-অনলাইন।