News Bangla

মামুনুল হক গ্রেফতার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম-মহাসচিব ও ঢাকা মহানগরীর সাধারণ সম্পাদক মামুনুল হককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার দুপুরে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জামিয়া রাহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ-ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার হারুন-অর রশীদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।গ্রেপ্তারের পর মামুনুলকে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপপুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।

গোয়েন্দা পুলিশ-ডিবির যুগ্ম-কমিশনার মো. মাহাবুব আলম জানান, মামুনুলের বিরুদ্ধে নতুন-পুরোনো বেশ কিছু মামলা আছে। এসব মামলায় তাকে মোহাম্মদপুরের একটি মাদ্রাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ‘রয়েল রিসোর্টে’ এক নারীকে নিয়ে অবস্থানকালে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা অবরুদ্ধ করলে আলোচনায় আসেন মামুনুল। অবশ্য ওই নারীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করেন তিনি।

স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির যোগদানকে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায় বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের পর এ নিয়ে বেশ কয়েকজন হেফাজত নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলো।

ডিসি হারুন বলেন, ২০২০ সালের মোহাম্মদপুর থানার একটি ভাঙচুর ও নাশকতার মামলায় তদন্ত চলছিল। তদন্তে হেফাজত নেতা মামুনুলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি সুস্পষ্ট হওয়ায় আমরা তাকে গ্রেফতার করেছি। এছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।

মামুনুল হক গ্রেফতার

তিনি বলেন, সম্প্রতি সারাদেশে হেফাজতের তাণ্ডবে থানা-সরকারি অফিসসহ অনেক কিছুই ভাঙচুর হয়েছে। আমাদের মোহাম্মদপুর থানায়ও ভাঙচুরের একটি মামলা ছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত করছিলাম। তদন্তের ভিত্তিতে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, ২০২০ সালের এক মামলার সঙ্গে সে জড়িত। এ মামলায় আমরা তাকে জামিয়া রহমানিয়া মাদ্রাসা থেকে পৌনে ১টার দিকে গ্রেফতার করেছি। ওখান থেকে গ্রেফতার করে আমাদের অফিসে নিয়ে এসেছি। এ ঘটনার সত্যতা সে স্বীকার করেছে বলেও জানান ডিসি।

তিনি বলেন, আজ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং আগামীকাল সোমবার (১৯ এপ্রিল) তাকে আদালতে তোলা হবে। কোন কোন মামলায় কি করা যাবে সেটা আমরা আমাদের ঊর্ধ্বতনদের সাথে আলোচনা করে ঠিক করবো।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হারুন অর রশীদ বলেন, ২০১৩ সালের শাপলা চত্বরের ঘটনা থেকে শুরু করে এ পর্যন্ত বিভিন্ন জায়গায় উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে হেফাজত। এর প্রেক্ষিতে সারাদেশের বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুরসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। মামুনুলের বিরুদ্ধে অজস্র মামলা রয়েছে। আমাদের কাছে যে মামলাটি রয়েছে, তাতে আমরা সত্যতা পেয়েছি।

মামুনুলের রিমান্ড আবেদন বিষয়ে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হারুন অর রশীদ বলেন, তার বিরুদ্ধে আরও মামলা রয়েছে, ওই মামলাগুলোসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মামুনুলকে গ্রেফতারের সময় কোনও ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি।

নরেন্দ্র মোদির সফরের সময় ২৬ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত সহিংসতায় দেশে ১৭ জনের মৃত্যুর হয়। এসব সহিংসতার ঘটনায় সারাদেশে প্রায় অর্ধশতাধিক মামলা হয়েছে। এসব ঘটনার মূল ইন্ধনদাতা হিসেবে হেফাজত নেতা মামুনুল হকের দিকেই সন্দেহের তীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সূত্রে জানা যায়, ২৬ মার্চ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে সহিংসতার ঘটনায় গত ৫ এপ্রিল হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকসহ ১৭ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে। মামলায় ২ হাজার ব্যক্তিকে অজ্ঞাতানামা আসামি করা হয়। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের উপ-দফতর সম্পাদক খন্দকার আরিফুজ্জামান বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলাটি করেন। সূত্র-জাগো ও জুম নিউজ।