News Bangla

বিট্রিশ বিরোধী আন্দোলনে যশোরের সৈয়দ মজিদ বকস অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সাজেদ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক।।  বিট্রিশ বিরোধী আন্দোলনে যশোরের সৈয়দ মজিদ বকস অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। উদীচী যশোর কার্যালয়টি সৈয়দ মজিদ বকসের। উদীচী তাঁর উত্তরসূরীদের কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছে।

তাঁর গ্রামের বাড়ি কেশবপুরের মির্জানগর গ্রামে। ১৮৯৫ খ্রিষ্টব্দে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা সৈয়দ আবুল ফজল জোনায়েম বকস্ বৃত্তশালী জমিদার ছিলেন। তার মাতা রাবেয়া খাতুন ছিলেন উচ্চ শিক্ষিত মহিলা। সৈয়দ মাজিদ বকস্ এর পূর্ব পূরুষ ফাকের মোল্লা বাদশাহ জাহাঙ্গীরের ওস্তাদ ছিলেন ফাকের মোল্লা মির্জা সফসিকালের সাথে মুফতি হয়ে কেশবপুরের মির্জানগরে বসতি স্থাপন করেন।
সৈয়দ মজিদ বকস যশোর জিলা স্কুল থেকে ১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দে মেট্রিকুলেশন, কলকাতা আলিয়া মাদ্রাসা থেকে ১৯১১-তে এফএ এবং কলকাতা প্রেসিডেন্সী কলেজ থেকে ১৯১৪-তে পদার্থ বিজ্ঞান এবং রসায়নে বিএ অনার্স পাশ করেন। তিনি উচ্চতর পড়াশোনার জন্য যুক্তরাজ্যে বৃত্তি পেয়েছিলেন কিন্তু ব্যক্তিগত কারণে তিনি সেখানে যেতে পারেননি। ১৯১৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি কলকাতা বিশ^বিদ্যালয়ের অধীন একটি কলেজ থেকে এলবি পাশ করেন এবং আলিপুর বারে যোগ দেন। ১৯১৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি যশোর বারে যোগদান করেন এবং ওই বছরেই কংগ্রেসের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ১৯২০ খ্রিষ্টাব্দে গান্ধীজি’র অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে ব্রিটিশ সরকার যশোরে যে কয়’জন নেতাকে গ্রেফতার করেন, তিনি তাদের মধ্যে অন্যতম।
সৈয়দ মাজিদ বকস্ ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বিত্তশালী পরিবারের সন্তান হওয়া স্বত্ত্বেও তিনি নিজে প্রতিদিন যশোর দেওয়ানী আদালত প্রাঙ্গনে হাতে তৈরী খদ্দর বিক্রয় করতেন। তিনি নিজে আজীবন খদ্দর ব্যবহার করেছেন। তিনি কলকাতার কৃতিছাত্র এবং পন্ডিত মানুষ ছিলেন। তার শিক্ষক ছিলেন বিজ্ঞানী আচার্য্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়। ব্রিটিশ আমলে সমস্ত সংকীর্ণতার উর্দ্ধে উঠে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে যেসব নেতৃস্থানীয় মুসলমান ধর্ম নিরপেক্ষ কংগেসে যোগ দিয়েছিলেন তাদের মধ্যে নিঃসন্দেহে সৈয়দ মজিদ বকস্ অন্যতম। তিনি অসহযোগ ও খেলাফত আন্দোলনের সময় শোর থেকে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে স্মারণীয় হয়ে আছেন।
১৯২২ থেকে ১৯২৮ সাল পর্যন্ত তিনি প্রেসিডেন্সি ও রাজশাহী ডিভিশনের সেন্ট্রাল লেজেস লেটিভ এ্যাসেম্বেলি’ল (দিল্লী) মেম্বার ছিলেন। তিনি সেন্ট্রাল লেজেস এ্যাসেম্বেলি’ল (দিল্লী) স্বরাজ পার্টির ডেপুটি লিডার ছিলেন। তিনি ১৯২৯ -৩৬ সাল পর্যন্ত ঝিনাইদহ ও যশোর থেকে নির্বাচিত বেঙ্গল লেজেসলেটিভ কাউন্সিল এর মেম্বার ছিলেন। তিনি কলকাতা করর্পোরেশনের কউন্সিলর ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তিনি মতিলাল নেহেরু, জহরলাল নেহেরু, মহাতœাগান্ধী, সি.আর.দাশ, সুভাষ বসু, একে ফজলুল হক, মাওলানা ভাষানী প্রভৃতি রাজনীতিবিদের সহচার্য অর্জন করেছিলেন।
সৈয়দ মাজিদ বকস্ ১৯৬৩ সালের মার্চে মাসে মৃত্যুবরণ করেন। আবুল মনসুর আহমদের লেখা ‘আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর’ বইতে ‘বেংগল প্যাক্ট’ অধ্যায়ে সৈয়দ মজিদ বকস সম্পর্কে লিখেছেন, ‘১৯২২ সালের মাঝামাঝি প্রাদেশিক খিলাফত ওয়ার্কিং কমিটির এক বৈঠক উপলক্ষে কলিকাতা গেলাম তদানিন্তন প্রাদেশিক সেক্রেটারি সৈয়দ মজিদ বখশ সাহেবের বিশেষ অনুরোধে কলিকাতায়ও আমার এই প্রথম পদার্পণ। খিলাফত কমিটির মিটিং-এও আমার এই প্রথম উপস্থিতি। আমি অনেক আগে হইতেই প্রাদেশিক ওয়ার্কিং কমিটিরর মেম্বার থাকা সত্ত্বেও এর আগে কখনও তার মিটিংএ যোগ দেই নাই।…ওয়ার্কিং কমিটির সমস্ত সদস্যের সাথে বিশেষত: জিলা-নেতৃবৃন্দের সাথে খিলাফতের বিশেষ পরিস্থিতি আলোচনা করতে চান সেক্রেটারি মজিদ বখশ সাহেবের এই মর্মের পত্র পাইয়াই আমি এই সভায় অংশ গ্রহণ করিতে আসি।’