News Bangla

বরিশানে বিজিবি মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনে হামলার ঘটনায় নগরে পুলিশ, র‍্যাবের টহল জোরদারের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে অনুষ্ঠিত সভায় নগরের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ১০ প্লাটুন বিজিবির সদস্য বরিশালের পথে রয়েছে। রাতে তারা বরিশালে পৌঁছাবে। বিজিবির সঙ্গে সার্বক্ষণিক থাকবেন ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ জন্য বরিশালের বাইরের জেলা থেকে ১০ জন ম্যাজিস্ট্রেট চাওয়া হয়েছে। ৮ জন চলে এসেছেন। বাকিরাও আসবেন।

বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালের জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দার গণমাধ্যমকে বলেন, বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে হামলার ঘটনার পর নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বিজিবি ও অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট চাওয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে খুলনা জোন থেকে ১০ প্লাটুন বিজিবি রওয়ানা হয়েছে। এছাড়া পিরোজপুর ও পটুয়াখালী থেকে ১০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসছেন।

এর আগে এর আগে বুধবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাতে বরিশাল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুনিবুর রহমানের সরকারি বাসভবনে কয়েক দফা হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় পুলিশ ও আনসার সদস্যসহ অন্তত ৩০-৪০ জন আহত হন।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) আলী আশরাফ ভূঞা জানান, ইউএনওর সরকারি বাসভবনে হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত ১২ জনকে আটক করা হয়েছে। জড়িত অন্যদের আটকে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সূত্রমতে, হামলার ঘটনায় দুই মামলায় শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ৩০ নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করা হলেও অজ্ঞাত দেখানো হয়েছে আরও শতাধিক ব্যক্তিকে।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে আছেন মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান মাহমুদ ওরফে বাবু, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক মোয়াজ্জেম হোসেন ওরফে ফিরোজ, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি অলিউল্লাহ অলি প্রমুখ।

আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের আহত নেতা কর্মীদের দাবি, নগরীতে টানানো শুভেচ্ছা ব্যানার খুলতে গিয়ে সিএন্ডবি সড়কে উপজেলা পরিষদের সামনে গেলে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাঁধার সম্মুখীন হয়। এরপর তাদের ওপর গুলি ছোড়া হয়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সিটি মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহ উপস্থিত হলে ফের গুলি চালায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাস ভবনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা। তারা পঞ্চাশ রাউন্ডের উপরে গুলি চায় বলে দাবি করেছে নেতাকর্মীরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুনিবুর রহমান বলেছেন, সংরক্ষিত এলাকায় ছাত্রলীগের নেতারা মোটরসাইকেল নিয়ে রাতের বেলায় ব্যানার খুলতে আসায় তিনি বিষয়টি সকালে দেখবো। কিন্তু এসময় লীগ কর্মীরা চড়াও হয় এবং হামলা চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে নিরাপত্তায় থাকা আনসার সদস্যরা গুলি চালায়। সূত্র-একাত্তর টিভি।