News Bangla

ফিলিস্তিনিদের কাছে তামিমি মানবতার প্রদীপ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মিলি সুলতানা।। আহেদ তামিমি এক ফিলিস্তিনি বীরকন্যার নাম। আজ থেকে চার বছর আগে টিনএজার আহেদ তামিমি “Do or Die” পর্যায়ে চলে গিয়েছিলো। তামিমি তার বুদ্ধি হওয়ার পর থেকে দেখে এসেছে তার দেশের মানুষের উপর গণহত্যা চালিয়েছে ইসরায়েল। ছোটবেলায় তামিমি দেখতো তার বাবা মা নামাজ পড়তে বসে আল্লাহর কাছে আর্তনাদ করতেন, ফরিয়াদ জানাতেন। স্বাভাবিকভাবেই অনিশ্চিত জীবনের পথে চলতে শুরু করলো তামিমি ও তার পরিবার। কিন্তু যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে যায় তখন প্রতিহত করা জরুরি হয়ে পড়ে। তামিমির চেতনার স্পৃহা আগুনের লেলিহান শিখা হয়ে জ্বলতে লাগলো।

এক ইসরাইলি সেনার গালে ঘুষি মেরে বীরের মর্যাদায় ভূষিত হয়েছিল ১৬ বছরের কিশোরী আহেদ তামিমি। কোকড়ানো ও সোনালি চুলের এই কিশোরী তাদের বাড়ির প্রবেশ পথের কাছে দাঁড়ানো ইসরাইলি সেনার দিকে হেঁটে এগিয়ে গিয়ে তার গালে সজোরে থাপ্পড় ও লাথি মারে কিশোরী আহেদ তামিমি। এর প্রতিশোধও ভালোভাবে নিয়েছে ইসরায়েলের দখলদার বাহিনী। একসৈন্য রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে তামিমির উপর গুলি চালাতে উদ্যত হলে অন্যরা তাকে বাধা দেয়। তারা বলল, “এই পুঁচকে ছুকরিকে নিয়ে আমরা তামাশা করতে পারব। ওকে গুলি করে মেরে ফেললে তামাশার উপকরণ পাব কোথায়”? ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল তামিমির পরিবারের এক সদস্যের মাথায় ইসরাইলি সেনাদের গুলি করাকে কেন্দ্র করে।

তামিমি ও তার চাচাতো বোনকে গ্রেফতার করা হয়। তামিমির শাস্তিও ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি হয় কিশোরী তামিমিকে নিয়ে। ব্যাপক জনমত ও তীব্র প্রতিবাদের কারণে ৮ মাস পর (২০১৮ সালের ২৯ জুলাই) মুক্তি পায় বীরকন্যা আহেদ তামিমি। তাকে প্যালেস্টাইনের ফ্রিডম ফাইটার বলা হয়। “আমি একজন ফ্রিডম ফাইটার। আমি কখনোই ভিকটিম হবো না”–গ্রেফতার হবার পরেও তামিমিকে এই জাতীয় দুঃসাহসিক মন্তব্য করতে দেখা গেছে। চোখের সামনে চাচা ও ফুপুর নৃশংস হত্যা দেখেছে তামিমি। তার বাবা মাকে অসংখ্যবার জেলে যেতে দেখেছে। স্বাভাবিকভাবেই তার ভেতর প্রতিশোধের আগুন জ্বলে উঠেছে।

এখন তামিমির বয়স একুশ। জনপ্রিয়তা তার আকাশ ছুঁয়েছে। ফিলিস্তিনিদের কাছে তামিমি মানবতার প্রদীপ।