News Bangla

প্রধানমন্ত্রীর উপহার বড়েঙ্গা আবাসন প্রকল্পের কাজ বন্ধের পায়তারা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপহার ভূমিহীনদের আবাসন প্রকল্পের কাজ বন্ধ করতে আইন পেশায় নিয়োজিত কেশবপুরের এক আওয়ামী লীগ নেতা চেষ্টা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত উপজেলার বড়েঙ্গা আবাসন প্রকল্পের ওই কাজ বন্ধ করার জন্য আদালতের নোটিশের বিষয়ে খোঁজ নিতে তিনি ইউএনও অফিসে যেয়ে সকলকে হতবাক করেছেন।

সংশ্লিষ্ট একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আশ্রায়নের অধিকার শেখ হাসিনার উপহার শ্লোগানে কেশবপুরের ৭টি ইউনিয়নের ১০টি স্পটে খাস জমির ওপর ১১০টি ভূমিহীন পরিবারের বসবাসের জন্য আবাসন প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আশ্রায়ন-২ প্রকল্পের আওতায় গত মার্চ মাসে কেশবপুরের মঙ্গলকোট ইউনিয়নের বড়েঙ্গা গ্রামে ৮৪ শতক ভিপি সম্পত্তির ওপর ২০টি ঘর নির্মাণের কাজ শুরু হয়।

নির্মাণ কাজ চলাকালীন বড়েঙ্গা গ্রামের মৃত ওমর আলী খানের ছেলে হারুন-অর রশিদ খান ওই ৮৪ শতকসহ ১ একর ৯ শতক জমি তাদের দাবি করে যশোরে কেশবপুর সহকারী জজ আদালতে চলতি বছরের ১৬ মার্চ একটি মামলা করেন। দেং-৮৯/২১ নং ওই মামলায় যশোরের ডিসি, কেশবপুরের ইউএনও, এসি ল্যান্ড ও মঙ্গলকোট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাকে বিবাদী করা হয়েছে।

ইতোমধ্যে উক্ত জমিতে নির্মাণ কাজের ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশের জন্য দেওয়ানী কার্য বিধি আইনের অর্ডার ৩৯, রুল ১/২ ও ১৫১ ধারায় বাদী আদালতে আবেদন করেছেন। ফলে বিজ্ঞ আদালত এ বিষয়ে বিবাদীদের নোটিশ প্রদান করেন।

এদিকে উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ও প্রাক্তন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকটে রফিকুল ইসলাম পিটু উক্ত জমির ওপর নির্মাণ কাজ বন্ধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দপ্তরে যেয়ে দেং-৮৯/২১ নং মামলায় আদালতের নোটিশ রিসিভ হয়েছেন কিনা জানতে চেয়েছেন। আদালতের নোটিশ রিসিভ হওয়ায় বড়েঙ্গা আবাসন প্রকল্পের ওই নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখা উচিত বলে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন তিনি। সরকার দলীয় একজন দায়িত্বশীল নেতা ও এই সরকারের প্রাক্তন পিপি হয়েও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের স্পেশাল প্রকল্প নিয়ে তার এধরণের কর্মকান্ডে সকলকে হতবাক করেছেন।

এ ব্যাপারে যশোর দেওয়ানী আদালতের ভিপি শাখার সরকারী আইন কর্মকর্তা (জিপি) অ্যাডভোকটে মনোরঞ্জন কর্মকার বলেন, সরকারী আশ্রায়ন প্রকল্পে নির্মাণাধীন বড়েঙ্গা মৌজার ওই ৮৪ শতক জমি এসএ এবং সিএস জরিপে হাট ও নদী শ্রেণীভুক্ত হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। ১৯৮৮ সালের আরএস জরিপে ওই জমি বাংলাদেশ সরকারের নামে ১ নং খতিয়ানে রেকর্ড হয়। এ ব্যাপারে দেং-৮৯/২১ নং মামলায় আদালতের নোটিশের জবাব দেওয়া হয়েছে।

কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, ওই মামলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞার পর সরকার পক্ষে জবাব দাখিল করা হয়। বিধায় বাদী পক্ষের দাবি অযৌক্তিক হওয়ায় নিষেধাজ্ঞার আদেশ সংশ্লিষ্ট আদালত খারিজ করে দিয়েছে। এখন আর বড়েঙ্গা আশ্রয়ন প্রকল্পের কাজ করতে কোন বাঁধা নেই।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ও প্রাক্তন পিপি অ্যাডভোকটে রফিকুল ইসলাম পিটু বলেন, মঙ্গলকোট আমার নিজের এলাকা। ওই জমির বিষয়ে ২০১৪ সালের একটি মামলা ছিল। এর আগে একটি রায়ও তাদের পক্ষে হয়েছে। নতুন করে আদালতের শোকজ হওয়ার পর জমির ওপর নির্মাণ কাজ বন্ধ না হওয়ায় এলাকার লোকজনের অনুরোধে শুধুমাত্র আদালতের নোটিশের বিষয়ে ইউএনও’র সাথে কথা বলতে তার অফিসে গিয়েছিলাম। তিনি আরও বলেন, ওই মামলার আইনজীবীও আমি না। ওই জমির ওপর সরকারের নির্মাণ কাজ বন্ধ করার কোন অধিকারও আমার নেই। কিছু লোক আমাকে ব্যক্তিগত ভাবে অসম্মানিত ও হেয় করার জন্য এ বিষয়ে অপপ্রচার চালাচ্ছে।