News Bangla

দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরেশ দেবনাথ।। কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন খাল-বিল, জলাশয় হাওড়-বাঁওড় থেকে পরিচিত হরেক রকমের দেশীয় প্রজাতির মিষ্টি পানির ছোটমাছ বিলুপ্ত হতে চলেছে। বর্তমান সময়ে মুক্ত জলাশয়ে দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া এখন দুস্কর, উপজেলার জলাশয় থেকে ঝিয়া, পুটি, সরপুটি, মায়া, খযরা, পাবদা, চান্দা, খলসে, টাকি, শিং, মাগুর, দেশি টেংরা, বোয়াল, বাইন, ফলই, চিংড়ি, মাছসহ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ প্রজাতির ছোট মাছ বিলুপ্ত হতে চলছে।

সরকারীভাবে সংরক্ষনের উদ্যোগ না নিলে কালে কালে এগুলো বিলুপ্ত হয়ে যাবে। এ অঞ্চলের এখন এসব মাছের দেখা মেলেনা, মাছ সংরক্ষনের অভাবে দেশীয় প্রজাতির সুস্বাদু মাছের বংশ বৃদ্ধির হার আশস্কাজনক ভাবে কমে গেছে।

মানুষের শরীরের আমিষের শতকরা ৭৫/৮০ ভাগ আসে দেশীয় প্রজাতির ছোট মাছ থেকে ,তাছাড়া ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম ও আয়রনসহ মানুষের শারীরিক ও মানসিক গঠনের সব চেয়ে ভালো উপাদান পাওয়া যায় ছোটমাছ থেকে। এছাড়া রাতকানা, স্মরণ শক্তি দুর্বলতা কমতে পুষ্টিকর উৎস হিসাবে ছোট মাছের গুরুত্ব অপরিসীম।

বাজারে মাছ ক্রয় করতে আসা পঞ্চাশোর্ধ বয়সের চাচা সিদ্দিকুর রহমান বলেন, কয়েক বছর আগেও দেশীয় প্রজাতির মাছের অভাব ছিলনা, খাল, বিল, নদ-নালাতে দেশীয় মাছের পরিমান এত ছিল যে, পানি থাকলেই সেখানে মাছ পাওয়া যেত। গ্রামাঞ্চলের সাধারণ মানুষ, জেলেসহ অধিকাংশরাই এসব জলাশয়ে জাল, পাতন জাল, হাতজাল তোড়াজাল, ঠেলাজাল, ঘুনি, চারো ইত্যাদি দিয়ে এসব মাছ ধরেই সংসার চালাতেন। কিন্তু এখনকার সময়ে এগুলো পাওয়া খুবই কষ্টদায়ক, আর যদিও পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো চাষী মাছ হিসাবে বাজারে আসছে।

কেশবপুর মাছ বাজার কমিটির সভাপতি হান্নান বিশ্বাস বলেন, উজানে বাধ নির্মান, নদ-নদী, খাল-বিলের নাব্যতা হ্রাস, অপর্যাপ্ত মৎস ঘের হওয়ায় , সংশ্নিষ্ট হাওড়-বাঁওড়ের গভীরতা কমে যাওয়া, ভরাট করা, মা-মাছের আবাসস্থল খাল- বিলে পানি না থাকা বিভিন্ন ধরনের বিদেশী মাছের চাষ ও প্রাকৃতিক বৈরী আচরণ ইত্যাদি কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা গ্রহণের কথা জানান।