News Bangla

ছাত্রলীগ নেতাকে হত্যার হুমকিতে পৌর মেয়রের বিরুদ্ধে থানায় জিডি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কেশবপুর পৌর সভার মেয়রের দেয়া উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক হাবিবুর রহমান খান মুকুলকে হত্যার হুমকির ঘটনায় কেশবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরী দায়ের করা হয়েছে। নিরাপত্তা এবং মেয়রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার দাবিতে ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান মুকুল মঙ্গলবার রাতে কেশবপুর থানায় সাধারণ ডায়েরী দায়ের করেন। জিডি নং ৪৫০।

ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমান মুকুল সাধারণ ডায়েরীতে অভিযোগ করেছেন, কেশবপুর পৌর সভার মেয়র রফিকুল ইসলামের একটি ভিডিও একজন ব্যক্তির ফেসবুক আইডিতে ভাইরাল হওয়ায় তিনি অন্য লোকের প্ররোচনায় পড়ে আমাকে মিথ্যা সন্দেহ করে বলে যে, আগামী সাত দিনের মধ্যে কার মাধ্যমে এই ভিডিও ভাইরাল হয়েছে তা তাকে না জানালে তিনি আমাকে দেখে নেবে বলে হুমকি দেয়। আমি তাকে জানাই ভিডিও কার মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে তা আমার জানা নেই।

 

এরপর ১০ মে বেলা ১টা ৩৩ মিনিটে তার মোবাইল নং ০১৭১৭-০০৩৬৫১ হতে আমার মোবাইলে ফোন করে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একই মোবাইল থেকে মেয়র রফিকুল ইসলাম ১১ মে ১২ টা ৩৬ মিনিটে পূণরায় ফোন করে আমাকে বিভিন্ন অশ্লীল অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করাসহ আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের মারপিট, প্রাণনাশ, এমনকি আমাদের ব্যবসা বাণিজ্য বন্ধ করে দিয়ে আমাদের গ্রামছাড়া করবে বলে হুমকি দেয়।

জিডিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, মেয়র রফিকুল ইসলাম আমার ও আমার পরিবারের সদস্যদের যে কোন দিনে, যে কোন সময়ে জানমালের ক্ষতি করতে পারে বলে আশঙ্খা করছি। হুমকিদাতা কেশবপুর পৌর সভার মেয়রের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি করে ছাত্রলীগে নেতা হাবিবুর রহমান মুকুল তার ও তার পরিবারের নিরাপত্তা চেয়েছেন।

উল্লেখ, কেশবপুর পৌরসভার মেয়র রফিকুল ইসলাম মোড়লের মদের আড্ডার একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ায় উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান খান মুকুলকে পরপর দু’দিন হত্যার হুমকির অডিও রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা জানান, উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার আবদুল আজিজ ফেসবুকে বিভিন্ন সময় মেয়রের মদপানের ছবি আপলোড করে আসছেন। মেয়র পক্ষের লোকজন এসব ছবি এডিট করা হয়েছে বলে দাবি করতেন। তবে সোমবার একটি মদের আসরের ভিডিও ফেসবুকে ফাঁস হলে মুকুলকে সন্দেহ করেন মেয়র রফিকুল। ওইদিন দুপুরে তিনি ফোন করে মুকুলকে হত্যার হুমকি দেন।

এদিকে, আবদুল আজিজ ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানিয়েছেন, মদের আসরের ভিডিও আপলোডকারী সন্দেহে সোমবার রাতে মেয়রের সন্ত্রাসী বাহিনী তার বাড়িতে পরপর পাঁচটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে।

হাবিবুর রহমান মুকুল জানান, ওই ভিডিও সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। তবু মেয়র আমাকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। এতে আমার পরিবার শঙ্কিত। বাধ্য হয়ে আমি বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়ে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছি।

এ ব্যাপারে কেশবপুর থানার ওসি বোরহান উদ্দীন জানান, এটা তাদের নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি। জিডি ঘটনায় তিনি কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ প্রসঙ্গে মেয়র রফিকুলের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।