News Bangla

চীন সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে দুর্বিষহ দেশ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

চীনে ইন্টারনেট সেন্সরশিপ, নজরদারি ও প্রপাগান্ডা নজিরবিহীন পর্যায়ে বলে দাবি করেছে রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ)। বলেছে, সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে দুর্বিষহ দেশ হচ্ছে চীন। দেশটিকে সাংবাদিকদের জন্য সবচেয়ে বড় কারারক্ষক।

মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) বার্ষিক গণমাধ্যম স্বাধীনতা সূচক প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। প্রতিবেদনে আরএসএফ জানায়, কোভিড-১৯ মহামারিতে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নিপীড়ন বেড়েছে।

১৮০টি দেশের গণমাধ্যম স্বাধীনতার হালহকিকত তুলে ধরা হয়েছে এই সূচকে। আরএসএফ জানিয়েছে, প্রায় তিন-চতুর্থাংশ দেশের মূল্যায়নে দেখা গেছে, সাংবাদিকতা সম্পূর্ণ প্রতিরোধ কিংবা বাধার মুখে রয়েছে। এতে স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থার সময়ে সাধারণ মানুষের সঠিক তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

চীন ছাড়াও সূচকের সবচেয়ে তলানিতে থাকা চারটি দেশ হচ্ছে, জিবুতি, তুর্কমেনিস্তান, উত্তর কোরিয়া ও ইরিত্রিয়া। গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় সূচকে সবার উপরে আছে নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, সুইডেন, ডেনমার্ক ও কোস্টারিকা।

এক বিবৃতিতে আরএসএফ মহাসচিব ক্রিস্টোফি ডেলয়ের বলেন, গুজবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় টিকা হচ্ছে সাংবাদিকতা। সীমান্তজুড়ে, সামাজিক প্ল্যাটফর্মে, সামাজিকমাধ্যমে গুজবের জবাবে সাংবাদিকতা সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম, যাতে নানাবিধ প্রমাণিত ঘটনাবলীর ওপর ভিত্তি করে সাধারণ মানুষ আলোচনা করতে পারে।

আরএসএফ জানায়, ২০২১ সালেও ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতার সমর্থকদের সবচেয়ে বড় জেলার হল চীন’। দেশটিতে ১২০ জনের বেশি কারাবন্দি রয়েছেন, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পরিরিস্থিতি তাদের জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

করোনা সংক্রমণ দেখা দেওয়ার পর থেকে তথ্য ও খবরের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। মহামারি নিয়ে খবর প্রকাশের জেরে সাত সাংসাদিক এখনো কারাভোগ করছেন।

আইনজীবী থেকে সাংবাদিকতায় আসা জ্যাং জান তাদের একজন। উহানের মহামারি নিয়ে তার প্রতিবেদনে জনশৃঙ্খলা নষ্ট বিঘ্ন হয়েছে বলে অভিযোগে বলা হয়।

আর ভাইরাস নিয়ে মিথ্যা গুজব ছড়ানোর দায়ে সাড়ে ৪০০-এর বেশি সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারীকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আটক করা হয়েছিল।

আরএসএফ বলছে, বিদেশি সাংবাদিকদেরও হয়রানি করছে চীনা কর্তৃপক্ষ। ২০২০ সালের প্রথমার্ধে ১৮ বিদেশি সাংবাদিককে চীন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।