News Bangla

কেশবপুরের হনুমান রক্ষা করা দরকার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরেশ দেবনাথ।। কেশবপুর উপজেলাব্যাপী বিরল প্রজাতির প্রায় চারশত কালো মুখো হনুমানের বসবাস। যে কারণে যশোরের কেশবপুর উপজেলা বাংলাদেশের মানচিত্রে আজ সুপরিচিত জনপথ।

উপজেলা পরিষদ চত্বর, রামচন্দ্রপুর, ব্রহ্মকাটি, কেশবপুর পাইলট স্কুল এলাকা, মধ্যকুল, হাসপাতাল এলাকা, ভোগোতি নরেন্দ্রপুর, বালিয়াডাঙ্গা,পাঁজিয়া, গড়ভাংগা, বেলকাটি, মনিরামপুরের মুজগুন্নী, বাঙ্গালীপুর, দূর্গাপুর, বসুন্তিয়া, মঙ্গলকোট, ফকিররাস্তাসহ বিভন্ন এলাকা জুড়ে প্রায় ‘চার শতাধিক’ কালোমুখো হনুমান প্রতনিয়ত বিচরণ করে থাকে। দেশের অন্য কোথাও বিশেষ একটা দেখা না গেলেও কেশবপুরে বেশ কিছু সংখ্যক কালমুখো হনুমান বাস করে।

গত কয়েক’শ বছর আগে কেশবপুর সদর ও পার্শবর্তী ১০-১৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিরল প্রজাতির এই কালমুখো হনুমান বসবাস করে আসছে। ৩০-৪০ বছর আগে এ এলাকায় প্রায় পাঁচ সহস্রাধিক হনুমান গ্রামাঞ্চলের গাছে, ডালে, ঝোপে, জঙ্গলে বাস করতো। কিন্তু এখন এর সংখ্যা কমতে কমতে প্রায় চারশতে এসে দাঁড়িয়েছে।

এখানে বসবাস উপযোগী আবাসস্থল না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় চলে গেছে। খাদ্যের অভাবে অনেক হনুমান দলছুট হয়ে গ্রাম অঞ্চলে যায়, ফলে তারা মানুষের হাতে নির্যাতনের শিকার হয়। কোন কোন সময় মানুষের তাড়া খেয়ে অথবা রাস্তা পার হতে যেয়ে কভার বিহিন বিদ্যুতের তারে শখ খেয়ে মৃত্যবরণ করে। বিভিন্ন বাড়ীতে যেয়ে বসে থাকে খাবার পাবার আশায়। আবার অন্যায়ভাবে ওদেরকে আহত করলে বিচার পাবার আশায় থানায় যেয়ে ধর্না দিত দেখা গেছে।

হনুমান আহত করার প্রতিবাদে ২০১৯ সালের ২২ সেপ্টম্বর কেশবপুর থানার প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়। এক সময়ের জীব বৈচিত্র চরন ভূমি হিসাবে পরিচিত বাংলাদেশ।

কালের বিবর্তনে বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্তির কাল অতিক্রম করছে। কিন্তু প্রতিটি জীব বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কেননা একটি প্রজাতির বিলুপ্তি হলে, অন্য দশটি প্রজাতি তার নির্ভরশীলতা হারাই। ফলে প্রজাতিগুলো বিলুপ্তির পর্যায় চলে আসে। এদেরকে রক্ষা করার দরকার।

এসব হনুমানের জন্য ‘জীব ও বৈচিত্ত’ সংরক্ষণ নামে একটি প্রকল্পের আওতায় প্রতিদিন এদের কলা, খোসাসহ বাদাম,পউরুটি খাদ্য হিসাবে দেওয়া হলেও তা সংখ্যার তুলনায় খুব অপ্রতুল। উপজেলা পরিষদ চত্বর, হাসপাতাল গেট ও কুটিরবাড়ি শ্মশানে অবস্থানরত হনুমানের মধ্যে এ খাদ্য বিতরণ করা হয়।

তাই কেশবপুরের এই হনুমান প্রজাতির রক্ষার কাল বিলম্ব না করে, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া দরকার। তা না হলে এই বিরল প্রজাতির হনুমান বিলুপ্তি হয়ে যাবে। এদের জন্য আলাদাভাবে আবাসস্থল তৈরীর প্রয়োজন। আর এজন্য সরকারের পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে বলে মনে করেন কেশবপুরের অভিজ্ঞ মহল।