News Bangla

কেশবপুরের বিভিন্ন ইউনিয়নে নেমে যাচ্ছে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পরেশ দেবনাথ ।। কেশবপুরে প্রচণ্ড খরায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে বাড়িতে বসানো সাধারণ টিউবওয়েল থেকে পানি উঠা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। পাশাপাশি গভীর নলকূপ থেকে পানি উঠাতে পর্যাপ্ত শক্তি প্রয়োগ করতে হচ্ছে। এছাড়াও গ্রামের অধিকাংশ পুকুরের পানি এখন তলদেশে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত না হওয়ায় কেশবপুর পৌরসভাসহ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর ক্রমশ নিচে নামতে শুরু করে। গত নভেম্বর মাস থেকে এখন পর্যন্ত কোন বৃষ্টি হয়নি বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। যে কারণে বাড়িতে বসানো অগভীর টিউবওয়েল থেকে ঠিকভাবে পানিও উঠছে না।

উপজেলার ত্রিমোহিনী, সাগরদাঁড়ি, পাঁজিয়া ইউনিয়নসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে পানির লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ায় ধানক্ষেতে সেচ দিতে বোরিং এর গোড়ার মাটি খুঁড়ে সেচযন্ত্র নিচে বসিয়ে পানি তুলতে হয়েছে। তীব্র তাপদাহের কারণে ইরি-বোরো মৌসুমে ধানক্ষেতের মাটি শুকিয়ে যাওয়ায় ৩ থেকে ৪ দিন পরপর সেচ দিতে হয়েছে। জমিতে পানি দিতে কৃষকের ভোগান্তির পাশাপাশি বেড়েছে সেচ খরচ।

উপজেলার মধ্যকুল গ্রামের মরিয়াম বেগম ও ভোলা দেবনাথ বলেন,তাদের বাড়িতে বসানো টিউবওয়েলে মাস খানেক ঠিকভাবে পানি উঠছে না। এ কারণে বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে কিছুটা দূরে মোড়ের মাথায় থাকা গভীর নলকূপ থেকে সিরিয়াল দিয়ে পানি আনছি।

পৌরসভার এক নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুফিয়া খাতুন বলেন, স্থানীয় স্লুইস গেটের পাশে বসানো গভীর নলকূপ থেকে পানি উঠানোর সময় প্রচুর শক্তি প্রয়োগ করতে হচ্ছে। কেশবপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি সদস্য রেহেনা ফিরোজ জানান, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় এলাকায় গভীর নলকূপ ও সেচ পাম্প থেকে পানি উঠাতে মানুষের কষ্ট বেড়েছে।

বিদ্যানন্দকাটি গ্রামের মহিতোষ ঘোষ জানান, আমাদের এলাকার পানীয়জলের গভীর নলকূপ গুলোতে বেশি বেশি চাপ দিয়ে জল উঠাতে হচ্ছে। মঙ্গলকোট বাজারের ব্যবসায়ীদেরও একই কথা। উপজেলা সহকারী জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী রায়হান আহম্মেদ বাপ্পী বলেন, প্রচণ্ড খরার কারণে কেশবপুরে গভীর নলকূপ থেকেও পানি উঠাতে শক্তি প্রয়োগ করতে হচ্ছে। পানির লেয়ার নিচে নেমে যাওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।