News Bangla

কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় হাত ভেঙ্গে দেয়া হলো

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় সাথী খাতুন (২৫) নামে এক স্বামী পরিত্যক্তাকে মারপিট করে হাত ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। ঘটনাটি সোমবার রাত ৯টার দিকে মণিরামপুরের কাজিয়াড়া গ্রামে ঘটে। মারপিটের শিকার সাথী খাতুন ওই গ্রামের মৃত. আব্দুর রহিমের মেয়ে। আহত সাথী এখন মণিরামপুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
থানার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার রাত ৯টার দিকে সাথী ঘরের বাইরে আসে। এ সময় প্রতিবেশি মশিয়ার বিশ্বাসের ছেলে সুমন হোসেন (২২) এবং কামাল মোল্ল্যার ছেলে তহিদুল ইসলাম (৩৫) অনৈতিক কাজের উদ্দেশ্যে সাথীকে ঝাপটে ধরে। এ সময় তার চিৎকারে বাড়ির অন্যান্য লোকজন এগিয়ে এলে সাথীকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। অভিযোগ করা হয়েছে চিৎকার করার অপরাধে সাথী খাতুনকে লাঠি দিয়ে মারপিট করে। সোমবার রাতেই তাকে মণিরামপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মারপিটের শিকার সাথী খাতুনের বাম হাতের হাড় সম্পূর্ণ ভেঙ্গে গেছে। এছাড়া শরীরে বিভিন্ন অংশে জখমসহ আঘাতে থেতলে গেছে। এ ঘটনায় সুমন এবং তহিদুল ইসলামকে অভিযুক্ত করে সাথীর ভাই শহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে মণিরামপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাথী জানায়, প্রতিবেশি তহিদ এবং সুমন তারা দু’জনেই খারাপ স্বভাবের ছেলে। দীর্ঘদিন তারা আমাকে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। ঘটনার রাতে বাড়িতে একটি সাপ মারা হলে ওই মরা সাপটি ফেলতে বাড়ির পিছনে যায়। এ সময় তারা ঝাপটে ধরলে সাথীর চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসে তারা।
খবর নিয়ে জানাগেছে, তহিদুল ইসলাম একজন একাধিক মামলার আসামী। বিস্ফোরক, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, গাছচুরি ও মারামারিসহ ৮ থেকে ৯টি মামলার আসামী সে। যুবদল নেতাখ্যাত এই তহিদ ও তার সঙ্গী সুমন ওই অঞ্চলে মাদক সিন্ডিকেট ও সুদে ব্যবসার জন্য ব্যাপক সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এলাকাবাসীর কাছে তহিদ এবং সুমন আতংকের নাম।
সোমবার রাতে হতিদরিদ্র পরিবারের স্বামী পরিত্যক্তা এই সাথীকে মারপিট করেও খ্যান্ত হয়নি তহিদ-সুমনা। থানায় মামলা করলে সাথীসহ তার পরিবারের লোকজনদের গ্রামছাড়া করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানাগেছে। অভিযোগের বাদী শহিদুল এবং আহত সাথী খাতুনসহ পরিবারের সদস্যরা বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
মণিরামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাটি তদন্তপূর্বক অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র-গ্রামের কাগজ।