News Bangla

কলারোয়ায় ইউরিয়া সারের চরম সংকটে দিশেহারা কৃষক

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কলারোয়া প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরার কলারোয়ায় চলছে আমন ধানের চারা রোপনের মৌসুম। এ সময়টাতে কৃষকরা ব্যস্ত সময় পার করছেন। আমন ধানের চারা রোপনের শুরুতে সার ব্যবহার করলেও হঠাৎ করে দেখা দিয়েছে সারের সংকট। ডিলার ও বিক্রেতাদের দোকানে ঘুরেও পাচ্ছেন না সার। দুই একজন কৃষক সার পেলেও সরকারি-নির্ধারিত দামের চেয়ে গুনতে হচ্ছে কয়েক গুণ বেশি দাম।

এদিকে সঠিক সময়ে আমন ধানের জমিতে সার প্রয়োগ করতে না পারলে প্রত্যাশিত উৎপাদন না হওয়ার আশঙ্কায় হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন উপজেলার সাধারণ কৃষকরা।

কৃষকদের অভিযোগ, বেশি মুনাফা লাভের আশায় ডিলার সিন্ডিকেটের সাথে খুচরা বিক্রেতাদের যোগসাজশে কৃত্রিমভাবে সারের সংকট তৈরি করা হয়েছে। ইউরিয়া, ট্রিপল সুপার ফসফেট টিএসপি, ডিএপি (ডাই-অ্যামোনিয়ায় ফসফেট), এমওপি (মিউরেট অব পটাশ) সারের দাম সরকার নির্ধারণ করে দিলেও বর্তমানে ইউরিয়া সার বেশি দামে বিক্রি করছেন। স্থানীয় সহকারী ডিলার ও সার ব্যবসায়ীদের কাছে সার কিনতে গেলে তারা সার দিচ্ছেন না। তারা বলছেন, সার পাওয়া যাচ্ছে না। তবে দাম বেশি দিতে চাইলে সার বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। এতে সিলিপ রসিদ দেওয়া হয় না। যাদের ক্যাশ মেমো রসিদ দেওয়া হচ্ছে তাদের সরকারি দামের রসিদ ধরিয়ে দিয়ে গোপন রাখতে বলে দিচ্ছেন। তবে এই বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রফিকুল ইসলাম জানান,প্রতি বছর আমার উপজেলায় বিভিন্ন মৌসুমে জন্য সরকারী ইউরিয়ার সার বরাদ্দ থাকে ৯৫০০ হাজার মেট্রিক টন, তবে দিচ্ছে মাত্র ৫ হাজার ৩০০ মেট্রিকটন। তা হলে ঘাটতি থাকে ৪ হাজার মেট্রিকটন। চলতি মৌসুমে অন্য বছরের তুলনায় বেশি চাষ হচ্ছে। এবং মাছের ঘেরে সার ব্যবহার করায় অতিরিক্ত সার প্রয়োজন । উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় উফশী, হাইব্রিড ও স্থানীয় জাতের ১২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ হচ্ছে। আমরা সারের সংকট যেন না হয়, তার জন্য চেষ্টা করছি।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতি বস্তা টিএসপি সারের দাম ১ হাজার ১শ টাকা সরকার নির্ধারণ করলেও বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৩শ টাকায়, ইউরিয়া প্রতি বস্তা ৮০০ টাকার পরিবর্তে ১ হাজার ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।ইউরিয়া সার সংকট থাকার কারনে সাধারন সার ব্যবসায়ীরা কৃষকের নিকট থেকে বেশি দামে সার বিক্রি করছে। উপায় না পেয়ে বাধ্য হয়ে কৃষকদের সরকারি বিধির সার কিনতে হচ্ছে অতিরিক্ত দামে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী উপজেলা ১৩ জন মূল সারের ডিলার। ৯ জন করে ইউনিয়নের স্থানীয় ব্যক্তিদের সারের সহকারী ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেয়ার নিয়ম থাকলেও এ উপজেলার চিত্র আলাদা। এখানে সবাই বড় ডিলার। এছাড়া ডিলাররা তাদের স্ব স্ব দোকানে অল্প কিছু সার প্রদর্শনীর জন্য রাখলেও বেশির ভাগ ডিলার তাদের গুদাম থেকে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সার ব্যবসায়ীদের কাছে গোপনে সার বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ কৃষকদের।

এ বিষয়ে দেয়াড়া গ্রামের কৃষক ওজিয়ার জানান, আমি র্দীঘদিন যাবত ইউরিয়া স্যার পাইনি। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পরেও সার না পেয়ে হতাশা নিয়েই ফিরে যাই। তবে বাড়ি ফেরার পথে এক সার ব্যবসাায়ী নিকট সার কিনতে গেলে তিনি বলেন আমার এক বসÍা সার আছে তবে বেশি দাম দিতে হবে। তিনি আরো জানান , বেশি দামে সার কিনলে পাওয়া যায় আর সরকারি নির্ধারিত দামে সার কিনলে ডিলার ও ব্যবসায়ীরা কাছে সার নেই। বাধ্য হয়ে ৯৫০ টাকায় সার ক্রায় করলাম।।আমরা সকল কৃষক আজ অসহায় হয়ে গেছি।কেই বিষয়টি দেখছে না।

তবে উপজেলা দেয়াড়া ইউনিয়নের সহকারী ডিলার আব্দুল মাজেদ জানান সারের দাম অস্বীকার করে বলেন কলারোয়া উপজেলায় সারের কোন ঘাটতি নেই,নতুন করে সার বরাদ্দ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত দামে কোন সার বিক্রয় হচ্ছে না।

সারের কৃত্রিম সংকটের বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা জানান ইউরিয়া সারের যেন কোন সংকট না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখছি। আমরা বাজার মনিটরিং করছি, তবে কোন সাধারন কৃষক যদি প্রমান দিতে পারে সারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম নিচ্ছেন, তবে সেই ডিলারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।