News Bangla

করোনা টেস্ট রিপোর্টে খালেদা জিয়ার আসল জন্মদিন প্রকাশিত হয়েছে: কাদের

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

করোনা টেস্ট রিপোর্টে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার  আসল জন্মদিনের সঠিক তথ্য প্রকাশিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ‘একাধিক জন্মদিনের নামে জাতিকে এতোদিন বেগম জিয়া অন্ধকারে নিমজ্জিত করে রেখেছিলেন। প্রকৃত অর্থে করোনা টেস্ট রিপোর্ট অনুযায়ী তার জন্মদিন ৮ মে।’

আজ সোমবার (১০ মে) বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ উপকমিটির উদ্যোগে আয়োজিত ১৩টি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাঝে করোনা সুরক্ষা সামগ্রী ও খাদ্য সহায়তা বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। নিজের সরকারি বাসভবন থেকে অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন মন্ত্রী।

দীর্ঘদিন মানুষ অসত্যের সঙ্গে চলতে পারে না, পারে না সত্যকে লুকিয়ে রাখতে- উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘হাতের তালু দিয়ে যেমন আকাশ ঢাকা যায় না, তেমনি সত্যকেও কখনও আড়াল করে রাখা যায় না। পৃথিবীর ইতিহাসে এক নির্মম, বেদনাদায়ক হত্যাকাণ্ড ১৫ আগস্ট। অথচ কতটা নিষ্ঠুর হলে এই দিনে বেগম জিয়া এতোদিন তার ভুয়া জন্মদিন পালন করে আসছিলেন!’

১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসে খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিন পালন করা জাতির পিতার হত্যাকারীদের উৎসাহিত করা এবং নির্মম হত্যাকাণ্ডকে উপহাস করারই শামিল বলে জনগণ মনে করে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপির নেত্রী কি পারতেন না শোকাবহ ১৫ আগস্টে ভুয়া জন্মদিনের অনুষ্ঠান না করতে? বিভিন্ন সময়ে জন্মদিন পালনকারী বেগম জিয়ার জন্মদিন বিষয়ক আসল সত্য তিনি নিজেই উন্মোচন করেছেন।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বেগম জিয়ার মেট্রিকুলেশন সনদ অনুযায়ী জন্মদিন ৯ আগস্ট ১৯৪৫, বিবাহ সনদে জন্মদিন ৫ সেপ্টেম্বর ১৮৪৫, পাসপোর্ট সনদে ১৯ আগস্ট ১৯৪৫, আবার দাবি করেন ১৫ আগস্ট ১৯৪৫ তার জন্মদিন। একজন মানুষের এতগুলো জন্মদিন থাকা নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্য এখন নতুন করে বেগম জিয়াই উন্মোচন করেছেন। অবশেষে করোনা টেস্টের জন্য দেওয়া তথ্যে জানা গেল বেগম জিয়ার জন্মদিন ৮ মে ১৯৪৬।’

স্বপরিবারে জাতির পিতার হত্যা দিবসে ভুয়া জন্মদিন পালন করা কতটা নিষ্ঠুর ও বিদ্বেষ প্রসূত রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ তা বলার অপেক্ষা রাখে না বলেও মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

খালেদা জিয়ার মুক্তি ও চিকিৎসা নিয়ে বিএনপি রাজনীতি করছে

বিএনপি নেতারা বেগম জিয়ার মুক্তি এবং চিকিৎসা নিয়ে এর আগেও রাজনীতি করেছেন, এখনও করছেন উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা তার রোগমুক্তি অবশ্যই কামনা করি। বয়স বিবেচনায় ও চিকিৎসার সুবিধার্থে মানবিক নেতৃত্ব শেখ হাসিনা তার সাজা সাময়িক স্থগিত করেছিলেন। কিন্তু বিএনপি নেতারা এখনও বেগম জিয়ার চিকিৎসার চেয়ে রাজনীতিতে অধিক মনোযোগ দিচ্ছেন।’

ওবায়দুল কাদের বেগম জিয়ার সুস্থতা কামনা করে বলেন, ‘তার বিদেশ যাত্রার ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রীর বক্তব্য সবাই জেনেছে। তাই এ নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই।’

ঈদযাত্রা যেন অন্তিম যাত্রা না হয়

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের মানুষকে  করোনায়  সচেতন করতে সারাদেশে দলীয় নেতাকর্মীদের ক্যাম্পেইন পরিচালনা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘সবাইকে  শতভাগ মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। ঈদ উৎসব যাতে অন্তিম উৎসবে পরিণত না হয় সেদিকেও সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে।’

২৩ বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী, ড. আবদুর রাজ্জাক, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কার্যকরী সদস্য সৈয়দ আবদুল আউয়াল শামীম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির এবং সংসদ সদস্য মোজাফফর হোসেন। সূত্র-বাংলা ট্রিবিউন।