News Bangla

উত্তরপ্রদেশে মসজিদ ভেঙে দেওয়ায় উত্তেজনা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ভারতের উত্তরপ্রদেশের বরাবাঁকিতে যোগী আদিত্যনাথের সরকার একটি শতবর্ষী মসজিদ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর ওই এলাকায় সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। খবর বিবিসি।

স্থানীয় প্রশাসন দাবি করছে, মসজিদটি অবৈধভাবে নির্মিত এবং এলাহাবাদ হাইকোর্টের অনুমতি নিয়েই ভাঙা হয়েছে। তবে অল ইন্ডিয়া পার্সোনাল ল বোর্ড ও সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড এই ঘটনায় তীব্র নিন্দা করে গোটা ঘটনার বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছে।

বরাবাঁকির স্থানীয় মুসলিমরাও বলছেন গত ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে ওই মসজিদে লাগাতার নামাজ পড়া হয়ে আসছিল।উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লক্ষ্ণৌ থেকে মাত্র বিশ মাইল দূরে পুরোনো জনপদ ও জেলা শহর বরাবাঁকি।

সেখানকার রাম সনেহি ঘাট তহসিলে উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেটের বাসভবনের লাগোয়া চত্বরে ছিল গরিব নেওয়াজ মসজিদ। কিন্তু মাস দুয়েক আগে জেলা প্রশাসন সেখানে তালা ঝুলিয়ে দেওয়ার পর থেকে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর মঙ্গলবার কর্তৃপক্ষ বিশাল বাহিনী নিয়ে এসে মসজিদের পুরো কাঠামোটিই ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেয়।

বরাবাঁকির জেলা প্রশাসক আদর্শ সিং সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ওই অবৈধ স্থাপনা কেন ভেঙে ফেলা হবে না তার কারণ দেখাতে আমরা সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নোটিশ দিয়েছিলাম গত ১৫ মার্চ।” “কিন্তু ওখানে বসবাসকারীরা শুনানিতে না-এসে সেখান থেকে পাট গুটিয়ে চলে যান। এরপর ২ এপ্রিল এলাহাবাদ হাইকোর্টের লক্ষ্ণৌ বেঞ্চের রায়েই প্রমাণিত হয়ে যায় যে ওই কাঠামো অবৈধ।”

গরিব নেওয়াজ মসজিদের খাদেম রমজান আলী বলেন, তাদের বক্তব্য পেশ করার কোনো সুযোগই দেওয়া হয়নি। “গত ১৭ মার্চ আমরা নোটিশের জবাব দিতে গেলেও কাছারি তা গ্রহণ করেনি। এরপর ওরা জেসিবি এনে আমাদের মসজিদের গেট ভেঙে ওখানে রাতারাতি দেয়াল তুলে দেয়।”

“তারপর থেকেই বলা শুরু হয়, এটা নাকি কোনো মসজিদই নয়! অথচ আমাদের পূর্বপুরুষেরা সেই কবে ব্রিটিশ আমল থেকে এই মসজিদ চালাচ্ছেন, সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডেও এটি নথিভুক্ত।” “অথচ সেই মসজিদের চারপাশে ব্যারিকেডে ঘিরে, পুলিশ মোতায়েন করে আমাদের সেখানে ঘেঁষতেও দেওয়া হচ্ছিল না।”

অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, ওই মসজিদটি নিয়ে কখনো কোনো বিতর্ক ছিল না এবং সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে সেটি ধূলিসাৎ করা হয়েছে। সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা খালিদ সাইফুল্লা রেহমানি বলেন, ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে মুসলিমরা সেখানে নামাজ পড়ে আসছেন – যে বক্তব্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও কোন দ্বিমত নেই।

উত্তরপ্রদেশে যোগী আদিত্যনাথের নেতৃত্বে বিজেপি-শাসিত রাজ্য সরকার গত চার বছর ধরে মুসলিমদের বিরুদ্ধে একটা ‘দৈনন্দিন সাম্প্রদায়িকতার’ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে— এমন অভিযোগ বারে বারেই উঠেছে। বরাবাঁকির এই ঘটনাও তারই সবশেষ দৃষ্টান্ত বলে মনে করেন অনেকে।

মসজিদ ভাঙার ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্ত দাবি করে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডও আদালতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টায় বরাবাঁকির ওই এলাকায় বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।