News Bangla

ইকবালকে নিয়ে গদা উদ্ধার করেছে পুলিশ

কুমিল্লার নানুয়াদিঘী পাড়ে পূজামন্ডপে কোরআন শরীফ রেখেছে ইকবাল। রিমান্ডে থাকা ইকবালকে নিয়ে দূর্গা প্রতিমার সামনে থাকা হনুমানের হাত থেকে সরিয়ে নেয়া গদা উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার রাত প্রায় ১১টার পর দারোগাবাড়ি মাজারের পাশে একটি ঝোপ থেকে গদাটি উদ্ধার করে পুলিশ।

সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় ওই দিন ১৩ অক্টোবর রাত ৩টা ১৮মিনিটে ইকবাল হোসেন গদাটি নিয়ে নানুয়াদিঘী পশ্চিম পাড় দিয়ে হেটে গদাটি হাতদিয়ে ধরে কাধেঁ রেখে দারোগাবাড়ী মাজারের সড়কে ঢুকে পড়ে। এর এক ঘন্টা আগে ইকবাল দারোগাবাড়ী মসজিদ এর বারান্দার দানবক্সের ওপর থেকে একটি কোরআন শরীফ নিয়ে বের হতে দেখা যায় অন্য একটি ফুটেজে।

বৃহস্পতিবার রাতে ইকবালকে কক্সবাজারের সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কক্সবাজার থেকে শুক্রবার ১২টা ৫মিনিটে কুমিল্লা পুলিশ লাইনস এ এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। পরে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার ইকবালকে আদালতে নেয়া হয়। আদালত তাকে ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।

রবিবার রাতে পুলিশ তাকে নিয়ে গদাটি উদ্ধারে বের হয়। এ ঘটনায় কুমিল্লা জেলায় ৯টি মামলায় প্রায় অর্ধশতাধিক লোককে আটক করেছে পুলিশ। তার মধ্যে ইকবাল , ইকরাম ফয়সাল ও হাফেজ হুমায়ুনের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

এদিকে কুমিল্লা নগরীর নানুয়া দিঘীর পাড়ের একটি পূজা মন্ডপে পবিত্র কোরআন অবমাননার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা তদন্ত করবে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রবিবার পুলিশ সদর দপ্তর মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিতে দেয়ার নির্দেশ দেয়। কুমিল্লার পুলিশ সুপার খান মোহাম্মদ রেজওয়ান সাংবাদিকদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিতে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

উল্লেখ্য, এ মামলায় গত বৃহস্পতিবার রাতে কক্সবাজার থেকে গ্রেপ্তার ইকবাল হোসেনসহ চারজন শনিবার থেকে ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে। অপর আসামিরা হচ্ছেন, ঘটনার দিন সকালে পুলিশকে ৯৯৯ এ ফোন করা রেজাউল ইসলাম ইকরাম, দারোগা বাড়ি মাজার মসজিদের সহকারী খাদেম ফয়সাল ও হুমায়ুন কবির সানাউল্লাহ।

ঘটনার দিন গত ১৩ অক্টোবর কোতয়ালী মডেল থানার এস.আই হারুন অর রশীদ বাদী হয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানা ও অবমাননার অপরাধে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে থানায় মামলা করেন। সূত্র-একাত্তর।