News Bangla

আস্থা সমবায় সমিতির বিরুদ্ধে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ॥ কেশবপুরে আস্থা পল্লী উন্নয়ন সঞ্চয় ও ঋনদান সমবায় সমিতির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি আদায়ে গ্রাহকদের চাপ প্রয়োগ, চক্রবৃদ্ধিহারে সুদ আদায়, নির্ধারনের চেয়েও অতিরিক্ত সুদ দাবি, গ্রাহকের সাথে অসদাচরণ, ব্লাঙ্ক চেকে অধিক টাকা লিখে মামলা দিয়ে হয়রানি, পুলিশের ভয় দেখানো, বাড়ির মালামাল ক্রোক এমনকি মারধরে উদ্যত হওয়াসহ নানাবিধ হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এবিষয়ে ভুক্তভোগীরা গত বুধবার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সমাজসেবা অফিসে প্রতিকারের জন্য লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, ২০১৬ সালে কেশবপুর পৌর এলাকার অনন্ত সড়কের পাশে উত্তম সাহা, মকবুল হোসেনসহ কতিপয় ব্যক্তি আস্থা পল্লী উন্নয়ন সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠান খাড়া করে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে সঞ্চয় ও ঋণদান কর্মসূচীর কার্যক্রম শুরু করেন।

করোনা-পরবর্তী সময়ে অনেক ক্ষুদ্রঋণ গ্রহণকারী গরিব মানুষ চরম আর্থিক ভোগান্তিতে দিন কাটাচ্ছেন। কাজকর্ম না থাকায় অনেকের নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। এমন মানবেতরভাবে জীবন-যাপনকারীদেরও ঋণের কিস্তি পরিশোধে কোনো ব্যত্যয় মানতে নারাজ এই এনজিও কর্মকর্তারা। যদিও গ্রাহককে কিস্তি পরিশোধে চাপ প্রয়োগ না করতে নির্দেশ রয়েছে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটির।

৩০ জুন পর্যন্ত কাউকে ঋণখেলাপি ঘোষণা করা যাবে না উল্লেখ করে গতবছরের ২২ মার্চ জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক অক্ষমতার কারণে ক্ষুদ্রঋণের কিস্তি অপরিশোধিত থাকলেও তাদের আর্থিক অবস্থা বিবেচনায় ৩০ জুন পর্যন্ত কিস্তি বা ঋণকে বকেয়া বা খেলাপি দেখানো যাবে না।

কিন্তু প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনার উপেক্ষা করে করোনা সংকটের সময়ই জোরপূর্বক কিস্তি আদায় করা হয়েছে। কিস্তি দিতে না পারলে চক্রবৃদ্ধি হারে মূল টাকার সাথে অতিরিক্ত সুদ যোগ করে দেয়া হয়েছে। এবিষয়ে ভুক্তবোগী পৌর শহরের ব্যবসায়ী সাধন সাহা গত ২৮ এপ্রিল আস্থা সমিতির কর্মকর্তাদের অমানবিক অত্যাচার থেকে পরিত্রাণ ও মানসম্মান নিয়ে সামাজিক মর্যাদার সঙ্গে জীবন রক্ষায় সহায়তা চেয়ে প্রশাসনের একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

লিখিত আভিযোগে পৌর শহরের সাহাপাড়া এলাকার মৃত শচিন সাহার ছেলে ব্যবসায়ী সাধন সাহা উল্লেখ করেছেন, ব্যবসায়িক প্রযোজনে তিনি আস্থা পল্লী উন্নয়ন সঞ্চয় ও ঋনদান সমবায় সমিতি লিমিটেডের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা ঋন গ্রহন করেন। তাদের শর্ত সাপেক্ষে টাকা উত্তোলনের পূর্বে ফাস্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে পায়েল এ্যালুমুনিয়াম নামে (১৮৮-১১১-০০০০০১৪৬) একাউন্টের স্বাক্ষরিত ব্লাঙ্ক চেক ও তার স্ত্রী সুচন্দা সাহা নামে (০১৮৮-১৩১-০০০০০৩২৯) একাউন্টের আরো একটি স্বাক্ষরিত ব্লাঙ্ক চেক জমা দেন।

২০১৯ সালের ১৮ জুলাই ঋন গ্রহন করার পর থেকে ১৪ মাসের কিস্তিতে লভ্যাংশসহ ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে মহামারি কোভিড-১৯ এর কারনে সমিতির কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে কিছুদিন দেরি হওয়ায় এনজিও কর্তৃপক্ষ তার কাছে আরো ৮ হাজার ২ শ ৪৭ টাকা অতিরিক্ত সুদ হিসেবে দাবি করে। সুদের টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে দুইটা চেকের পাতা ফেরৎ চাওয়ায় সমিতির কর্মকর্তারা তার উপর চড়াও হয়ে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি প্রদান করে। এমনকি ব্লাঙ্ক চেকে অধিক পরিমান টাকার অংক বসিয়ে মামলা দিয়ে হয়রানি করবে বলেও জানিয়েছে।

ওই সমিতিতে তার ডিপিএসের ৪২ হাজার টাকা জমা রয়েছে। সুদের অতিরিক্ত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় ডিপিএসের টাকা জমা নেয়া বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। লাভের টাকা না দিয়ে জমাকৃত টাকা থেকে অতিরিক্ত সুদ কেটে বাকি টাকা তুলে নিতে চাপ দিচ্ছে। এমতাবস্থায় ওই ব্যবসায়ী কোন উপায়ান্তর না পেয়ে হয়রানি বন্ধের দাবিতে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

এরকম ঘটনা সুধু ব্যবসায়ী সাধন সাহার সাথে প্রথম নয় এর আগেও একাধিক ব্যবসায়ীর সাথে অসদাচরনের শতাধিক অভিযোগ রয়েছে আস্থা সমিতির বিরুদ্ধে। অনেক ব্যবসায়ী ওই সমিতি থেকে লোন নিয়ে সুদের যাতাকলে পিস্ট হয়ে সর্বসান্ত হয়ে গেছে। গত বছরের ১ জুলাই থেকে আস্থা সমিরি কিস্তি আদায়ে তাদের চাপপ্রয়োগ, গালিগালাজ, শারীরিক লাঞ্ছনাসহ নানা রকম অসদাচরণ করছে গ্রাহকদের সাথে। সরেজমিন আস্থা সমিতির নাম পরিচয় দানে অনিচ্ছুক কয়েকজন ঋণগ্রহীতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অনেকেই তাদের চাপ, হুমকি-ধমকি, হয়রানিসহ আসদাচরণের শিকার।

তাছাড়া সংস্থার কর্মকর্তারা সমবায় অফিসের অসাধু কিছু কর্মকর্তাকে উৎকোচ দিয়ে ম্যানেজ করে রাখে যে কারনে অভিযোগ দিলেও গ্রাহকরা কোন প্রতিকার পাননা। এছাড়াও কিছু সন্ত্রাসী প্রকৃতির ব্যক্তিকে ম্যানেজ করে একটি বলয় সৃষ্টি করে রেখেছে তারা। তাদের ভয়ে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না। এবিষয়ে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কমনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগের বিষয়ে আস্থা পল্লী উন্নয়ন সঞ্চয় ও ঋনদান সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক উত্তম সাহা বলেন, সমিতির নিয়ম মেনেই সকল কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। নিয়মের বাইরে গিয়ে কোন কাজ করা হয়নি। যদি কোন অভিযোগ থাকে সেটার কোন দালিলিক প্রমান নেই ।

এবিষয়ে উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ নূর আলম বলেন, আস্থা সমিতির বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার এম এম আরাফাত হোসেন বলেন, এ বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিয়ম বহিভূত কোন কার্যক্রম করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।