News Bangla

আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত সোহান মারা গেছে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের সংঘর্ষে আহত সোহান (২৫) ছয় দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে মারা গেছে। বুধবার রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। গত শুক্রবার সকালে প্রধানমন্ত্রী ঈদ উপহারের টাকা বিতরনের সময় কেশবপুর পৌর সভার বালিয়াডাঙ্গা ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের দু’গ্রুপের মধ্যে এক সংঘর্ষে সোহানসহ ১৫ জন আহত হয়। সোহানে অকাল মৃত্যুতে এলাকায় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শোকের মাতম চলছে।

কেশবপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও পৌরসভার ৯ নম্বর বালিয়াডাঙ্গা ওয়ার্ডের নবনির্বাচিত কাউন্সিলর শেখ এবাদত সিদ্দিক বিপুল এবং পৌর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ গ্রুপের সমর্থকরা শুক্রবার সকালে বালিয়াডাঙ্গা সাইক্লোন সেন্টারে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় অসহায় ও দরিদ্রদের মাঝে ৪শ ৫০ টাকা করে সরকারি সহায়তা দেওয়ার সময় কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

শেখ এবাদত সিদ্দিক বিপুল ও আবুল কালাম আজাদ গত পৌর নির্বাচনে পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড থেকে একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। সংঘর্ষ চলাকালে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে কাউন্সিলর শেখ এবাদত সিদ্দিক বিপুল গ্রুপের সমর্থক বালিয়াডাঙ্গা এলাকার মেহেদী হাসান (৩২), সোহেল রানা (৩২), আমীর আলী (৫০), আব্দুর রশিদ, আফছার আলী (৬৫) ও আবুল কালাম আজাদ গ্রুপের সমর্থক সোহান (২৫), মারুফ (৩৫), জাহিদ (২৫), রাজু (২৫), কুদ্দুস (২৭), নাজমুল (২২) এবং ফাতেমা বেগম (৪০) আহত হন।

আহতদের উদ্ধার করে এলাকাবাসী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এর মধ্যে গুরুত্বর আহত সোহান, নাজমুল ও সোহেল রানাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে মেহেদী হাসানকেও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এলাকাবাসী জানিয়েছে, মেহেদী হাসানই সোহানের মাথায় আঘাত করেন।

ঘটনার পর শেখ এবাদত সিদ্দিক বিপুল ও আবুল কালাম আজাদ একে অপরকে দোষারপ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে তাদের সমর্থকদের উপর ওই হামলা করা হয়েছে।

সরকারি সহায়তা বিতরণকারী পৌরসভার অফিস সহকারি হাবিবুর রহমান জানান, বালিয়াডাঙ্গা সাইক্লোন সেন্টারে দু’পক্ষের সংঘর্ষের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় সরকারি মানবিক সহায়তা বিতরণ কার্যক্রম স্থগিত করে দেওয়া হয়েছিল।

কেশবপুর থানার ওসি বোরহান উদ্দিন জানান, বুধবার রাতে সোহান মারা গেছে। সংঘর্ষের দিনে সোহানের চাচা আবুল কালাম আজাদ বাদি হয়ে যে মামলা (নং-৭ তারিখ, ০৯/০৫/২১) দায়ের করেছিলেন ওই মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত করা হবে। তিনি জানান, মামলা মূল আসামী মেহেদী হাসানকে বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয়েছে। এর আগে আরও তিন জন আসামীকে গ্রেফতার করা হয়ে। বাকিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।